মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়

মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়

মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে হলে পুরো প্রতিবেদন পড়তে হবে। সম্মানিত পাঠক আসসালামু আলাইকুম। মাথার খুশকির মত বিরক্তিকর কিছু হতে পারে না।বিশেষ করে মেয়েদের।মেয়েরা বিভিন্ন ইভেন্ট গেলেই তাদের চুল ছেড়ে দিয়ে সেই ইভেন্ট এ অংশগ্রহণ করতে হয়।যদি কোন মেয়ের মাথায় খুশকি থাকে তাহলে সেই ইভেন্ট এ মেয়েটার লজ্জার শেষ থাকে না।খুশকি শুধু মেয়ে নয় সকলের জন্য লজ্জার।খুশকি হলে মাথার চুলকানি হয়,এবং এর থেকে খুশকি গুলো দিয়ে শরীর নোংরা হয়ে যায়।এবং সেটি দেখতেও বাজে লাগে।মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়.

তাই খুশকি দূর করার উপায় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের প্রতিবেদনে এই সম্পুর্ন ব্যাপার গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করছি উপকৃত হবেন।খুশকি কি? কেন হয় খুশকি। এবং এই খুশকি দূর করার উপায় গুলো কি সেই সকল ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবো।হয়তো প্রতিবেদনটি একটু বড় হবে তবে খুবই ইনফরমেটিভ একটা প্রতিবেদন হতে চলেছে।চলুন শুরু করি মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায় গুলো কি।

খুশকি কি?

খুশকি হচ্ছ ত্বকের বিশেষ একটি অবস্থা, যা মাথায় বা মাথার খুলিতে বেশি দেখা যায়।আশের মত চর্মরেনণু থেকে উঠে আসে,এবং ঝড়ে পড়ে।এই খুশকি আত্মসম্মানের সমস্যা সৃষ্টি করে।এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হচ্ছে এর ফলে চুলকানি হিতে পারে যা সেবোরেইক ডারমাটাইটিস অবস্থা কে নির্দেশ করে।তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের খুশকি হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।সারাবিশ্বে প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষের খুশকি রয়েছে।যার মধ্যে অধিকাংশ পুরুষের। তবে খুশকি একজন ব্যাক্তির সামাজিক জীবন জাপনে প্রভাবিত করে জন্য এর মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যক।

মেয়েদের খুশকি কেন হয়

মেয়দের হোক কিংবা পুরুষদের হোক খুশকি হবার জন্য বেশ কিছু কারন উল্লেখ্য। তবে একটি কথা মনে রাখবেন, খুশকি কোন রোগ নয়,বা কোন রোগের লক্ষ্মণ ও নয়।সাধারণত লোমকুপে ময়লা জমে এবং ছত্রাকের প্রভাবে এই খুশকি হয়ে থাকে।এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বেশ কিছু কারন উল্লেখ করা হলো।
১.চুল না আচরানো:
একজন ব্যাক্তির মাথা আচরানোর মাধ্যমে ছত্রাক গুলো ছরে পড়ে যায় এবং ছত্রাক জমে থাকতে পারে না।যদি কেউ নিয়মিত চুল না আচরায় তবে তার মাথায় খুশকি হতে পারে।চুল যথেষ্ট পরিস্কার রাখতে হবে এবং আচরাতে হবে তাহলে খুসকি হবে না।আর যদি না আচরানো হয় তাহলে খুশকি হবে।
২.শুল্ক ত্বক:
শীত কিংবা প্রচন্ড গরমে আবহাওয়ার আদ্রতা কম বেশি হয়।এর প্রভাবে দেহের পাশাপাশি মাথার ত্বক ও প্রভাবিত হয়।যার কারনে মাথায় চুল থাকার কারনে সেখানে খুশকি হয়।মোট কথা তাপমাত্রা অসামঞ্জস্যপূর্ণ  হলেও খুশকি হতে পারে।তাই সবসময় নিউট্রল পরিবেশ বা আবহাওয়ায় থাকার চেষ্টা করতে হবে।
৩.অতিরিক্ত তেল ব্যবহার :
তেল মাথার খুশকি দূর করেউ।এবং অতিরিক্ত তেল ব্যবহার মাথার খুশকি সৃষ্টি করে।অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে তেলের স্তুপ গুলো চুলের গোড়ায় বসে যায়।সেখানে ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব ঘটে এবং খুশকি হয়।তাই অতিরিক্ত তেল ব্যবহার বিন্ধ করতে হবে।
৪.শ্যাম্পু না করা:
শ্যাম্পু হলো চুলের ওষুধ। তাই কারোর যদি সঠিক পরিমাণ শ্যাম্পু চুলে না যায় তবে তার মাথার ত্বক অপরিষ্কার থাকে এবং এতে খুশকি হতে পারে।তাই যথাযথ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
৫.অতিরিক্ত মানসিক চাপ।

মানসিক চাকলে খুশকি হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ খুশকি হতে সাহায্য করে।

মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়

মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়

খুসকি সাধারণ  মাথার ত্বকে হয়ে থাকে। খুশকি চুলকে ড্যামেজ করে চুল রুক্ষ ও শুষ্ক করে তোলে। চুল সুন্দর ও ঝলমলে করে তোলার জন্য কিছু উপায় রয়েছে যা  অনুসরণ করে আপনিও আপনার চুলের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন।নারিকেল তেল খুশকি দুর করার জন্য কার্যকরী জিনিস৷ তবে নারিকেল তেলে সাথে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে দিতে পারলে খুশকি দুর হয়ে যায়।

FOLLOW GOOGLE NEWS

নারিকেল তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় দেওয়ার  ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে খুব ভালোভাবে মাথা পরিষ্কার করে নিতে হবে।  লেবুর রস ও নারিকেল তেল হালকা হাতে মালিস করে লাগাতে হবে। জোরে জোরে মাথার ত্বকে ঘসা যাবে না এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাদের ত্বক অনেক সেনসিটিভ বা এনার্জি সমস্যা রয়েছে তারা লেবু ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 ঘরোয়া উপায় খুশকি দুর করার

খুশকি হলে মাথায় অনেক চুলকানি হয় সাথে চুল ড্যামেজ ও রুক্ষ শুষ্ক হয়ে পরে। তাই এই খুশকি দুর করতে হতে হবে অনেক সংবেদনশীল ও চুলের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। চুলের যত্ন নিতে ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১. মসুর ডাল।

খুশকি দুর করতে মসুর ডাল অনেক বেশি উপকারী একটা জিনিস। যাদের অনেক বেশি খুশকি তাদের জন্য মসুর ডাল অনেক ভালো একটি সমাধান হিসেবে কাজ করবে। মসুর ডাল বেটে হালকা পানি দিয়ে গুলিয়ে মাথার  তালুতে লাগিয়ে রাখতে হবে ১ ঘন্টা তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

২. নারিকেল তেল।

নারিকেল তেল খুশকি দুর করতে খুবই কার্যকরী।  সপ্তাহে ২/ ৩ বার নারিকেল তেল মাথায় দিলে  খুশকি দুর হবে সাথে চুলের গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে এবং স্ক্যাল্পে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমি আনে। তাই সপ্তাহে ২/৩ বার নারিকেএ তেল মালিস করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

৩. পেঁয়াজের রস।

পেঁয়াজের রস চুল পড়া বন্ধ করে ও খুশকি দুর করতে সাহায্য করে। দুটো পেঁয়াজ পেষ্ট করে রস বের করে নিয়ে অল্প পানির সাথে মিশিয়ে  মাথার ত্বকে পেঁয়াজের রসের মিশ্রণ ভালো করে মালিস করে দিতে হবে৷  পেঁয়াজের রসের মিশ্রণ দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

৪. টক দই।

চুলের যত্নে টক দই বেশ উপকারী।
টকদই ভালো করে ফেটিয়ে সাথে ১ চামচ মধু মিশিয়ে  মাথায় লাগাতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুুয়ে ফেলতে হবে।

মুখে এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

৫. লেবুর রস।

২ টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে  অল্প পরিমাণ পানি অথমা মধু মিশিয়ে নিয়ে চুলের গোড়ায় ব্যবহার করুন। ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করে ভালোভাবে মাথা পরিষ্কার করে ফেলুন। এতে করে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

৬.মেথি

মেথি সাধারণত চুলের একটি মহা ওষুধ বলা হয়ে থাকে। মেথী সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহারের ফলে খুশকি দুর করার পাশাপাশি চুল উজ্জ্বল হবে। মেথি  রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে সকালে সেই পানি ছেঁকে মেথি ভালোভাবে পেস্ট করে নবতে হবে। মেথি ভিজিয়ে রাখা পানি ফেলে না দিয়ে রেখে দিন। মেথি পেস্ট মাথায় লাগিয়ে ১ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন এর পর ভিজিয়ে রাখা সেই মেথির পানি দিয়ে আবার একবার চুল ধুয়ে নিন এতে করে চুল অনেক নরম ও স্লিকি হবে।

৭. এ্যালোভেরা।

এ্যালোভেরা খুশকি দুর করতে সাহায্য করে। মাথার ত্বকে এ্যালোভেরা ভালোভাবে লাগিয়ে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এর পর শুকিয়ে এলে কন্ডিশন দিয়ে ভালো করে চুল পরিষ্কার করে নিন।

খুশকি দূর করার শ্যাম্পু

খুশকি দূর করতে এখন বেশ কিছু শ্যাম্পু ব্যবহার করা হয়। শ্যাম্পুর পাশাপাশি দরকার বিশেষ যত্ন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ভালোভাবে মাথা পরিস্কার করতে হবে। নিয়মিত তেল ব্যবহারে মাথার খুশকি অনেকাংশেই কমে আসে।  রাতের বেলায় তেল দিয়ে পরেরদিন শ্যাম্পু করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।  তবে তেল দিয়ে বাইরে না যাওয়াই ভালো কারণ বাইরের ধুলোবালু মাথার স্ক্যাল্পে লেগে পরে এবং চুলের গোড়ার পোরগুলোকে বন্ধ করে দেয় এতে করে চুল তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং মাথা খুশকি হয়।

অতিরিক্ত তেল মাথার স্ক্যাল্পের জন্য ভালো না তাই তেল দিয়ে ২ থেকে ৩ ঘন্টা অথবা এক রাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করা ভালো। খুশকি দুর করতে কিছু শ্যাম্পু খুব ভালো কাজ করে যেমন, ক্লিয়ার শ্যাম্পু, সিল্ক প্লাস,  আরো অনেক রকমের শ্যাম্পু বাজারে পাওয়া যায় যেগুলো ডাক্তার পরামর্শ দিয়ে থাকে।  শ্যাম্পু যেটাই হোক  নিয়মিত মাথা পরিস্কার রাখলে খুশকি দুর করা সম্ভব।

ঘন ঘন স্বপ্নদোষ বন্ধ করার উপায়

শ্যাম্পু অনেক বেশি ব্যবহার না করে অল্প পরিমাণ পানি নিয়ে তাতে প্রয়োজন মত শ্যাম্পু ঢেলে নিতে হবে এরপর পানির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মাথায় শ্যাম্পু ব্যবহার করার আগে ভালোভাবে মাথা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর  পানিতে মেশানো শ্যাম্পু ধীরে ধীরে মাথায় দিয়ে মাসাজ করতে হবে ফেনা হয়ে আাসলে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে এভাবে  মাথা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত শ্যাম্পু করতে হবে।
নিয়মিত শ্যাম্পু করলে চুলের খুশকি দুর হয় এবং চুল স্বাস্থ্যউজ্জ্বল ও ঝলমলে হয়ে উঠে।

অতিরিক্ত খুশকির কারণে যা ক্ষতি হয়।

খুশকি মুলত মাথার স্ক্যাল্পের একটি রোগ এটি অনেক বেশি পরিমাণ হলে স্কিন ক্যান্সার হতে পারে। তাই অল্প থাকা অবস্থায় খুশকি প্রতিরোধ করা দরকার। মাথায় খুশকি হলে চুল পড়া বাড়তে পারে চুলে ভেঙ্গে ঝরে পরে।
খুশকির কারণে চুল ড্যামেজ হয় এবং রুক্ষ হয়ে পরে। খুশকি অনেক বেশি হয় চুলে জট পাকে এবং চিরুনি করার সময় চুল অনেক বেশি পরিমানে উঠে। চুলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয় এবং চুল শুষ্ক হয়ে পরে। চুলের আগা ফেটে যাওয়া চুল নষ্ট হওয়ার একটি বিশেষ দিক এটি হয় সাধারণত চুল ভালোভাবে না শুকাতে পারলে। চুল ভালো ভাবে না শুকালে চুলে গন্ধ হয়, চুলে উকুন বৃদ্ধি পায় এবং অনেক বেশি পরিমাণ খুশকি হয়।

খুশকি হওয়ার কারণে চুলের আদ্রতা হারিয়ে ফেলে। চুল লাল রং ধারণ করে। পুষ্টি ঘারতির কারণে মাথায় খুশকি ও আরো নানাবিধ সমস্যা দেখা যায়। চুল পড়ার কারণ হিসেবে খুশকিকে দায়ি করা হয় কারণ চুল খুশকি হলে অনেক বেশি চুলকানি হয়। চুলকাতে হলে মাথার তালুতে অনেক বেশি প্রশার পরে ফলে চুল উঠে যায়। খুশকি কমিয়ে আনলে চুল পরা অনেক কমে আসবে এবং চুল তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। খুশকি মুক্ত রাখতে ঘরোয়া কিছু উপায়ে চুলে যত্ন নিতে হবে এবং নিয়মিত মাথা শ্যাম্পু করে পরিষ্কার রাখতে হবে। খোলা মাথায় বাইরে বের হওয়া যাবে না। খোলা মাথায় বের হলে অনেক ধুলা মাথার স্ক্যাল্পে জমা হয় যা মাথার ত্বকের অনেক ক্ষতি করে থাকে।

মেয়েদের মাথার খুশকি দূর করার উপায়

চুলের যত্নে টিপস সমূহ।

১. চুল ভেজা না রাখা কিংবা ভিজা চুলে শুয়ে না পরা।

২. ভেজা চুল চিরুনি না করা।

৩. অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করা।

৪. বাইরে যাওয়া সময় মাথায় স্কার্ফ ব্যবহার করা।

৫. চুল বেশি সময় ধরে খোঁপা করে না রাখা।

৬. সপ্তাহে ২থেকে ৩ বার ঘরোয়া উপায় চুলের যত্ন নেওয়া।

৭. চুল মোছার সময় গামছা দিয়ে চুল জোড়ে না ঝারা।

৮. ক্যারাটিন যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা এবং৷ কন্ডিশনার ব্যবহার করা।

৯. হেয়ার সিরাম ও ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা।

sorce website

SORCE WEBSITE

 

এরকম নিত্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যাপারে টিপস এন্ড ট্রিকস পেতে ফলো করুন আমাদের বিউটি হেলথ বিডি ফেসবুক পেইজে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *